"গণভবনকে গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত"
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর গণভবনে ঢুকে পড়ে জনতা/সংগৃহীত
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন, গণভবনকে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, নোবেলবিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কেবিনেট বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, "গণভবন বর্তমান অবস্থাতেই থাকবে এবং বড় কোনো পরিবর্তন না করেই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হবে।"
আসিফ মাহমুদ আরও উল্লেখ করেন, “সাউথ কোরিয়া ও অন্যান্য দেশে স্মৃতি মেমোরিয়াল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে গণভবনকে স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে ফ্যাসিবাদী সরকারের কর্মকাণ্ড প্রদর্শিত হবে।”
এর আগে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুক লাইভে এসে গণভবনকে জাদুঘর করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “গণভবন ছিল ফ্যাসিজমের কেন্দ্রবিন্দু। এটি ছিল জনগণের নানা সমস্যার কেন্দ্র, যেমন ডিভোর্স, প্লটের দাবি বা অন্যান্য ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধানের জায়গা। আমরা এটি একটি স্থায়ী স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব দেব।”
প্রসঙ্গত, গণভবন ছিল বাংলাদেশের একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন। পূর্বে কোনও প্রধানমন্ত্রী এই বাসভবনে বসবাস করেননি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে গণভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হলে সেখানে অফিস শুরু করেন, তবে বাস করতেন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে। প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় বেগম খালেদা জিয়া মইনুল রোডের বাড়িতে থাকতেন।
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন জুলাইয়ের প্রথম দিকে শুরু হয়। ছাত্রলীগসহ তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলা-নির্যাতনের ফলে এই আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান, যার ফলে আওয়ামী লীগের প্রায় ১৬ বছরের শাসনের সমাপ্তি ঘটে। ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ শপথ নেন।

0 Comments